০৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাতারাতি বদলে গেল হরমুজ দ্বীপের সমুদ্রের রঙ

  • সকাল সংবাদ
  • আপলোড সময় : ০১:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৯৪ Time View

ইরানের হরমুজ দ্বীপের (Hormuz Island) উপকূল আবারও এক অপার্থিব রূপান্তরের মাধ্যমে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এমনিতেই ভ্রমণার্থীদের জন্য এই অঞ্চল এক কথায় স্বর্গরাজ্য। যেখানে পুরো বিশ্ব থেকে মানুষ প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করতে হাজির হয়। আর সেই অঞ্চলই যখন প্রকৃতির নিয়মেই তাঁর রঙ বদলায় তখন তাঁর আকর্ষণ যেমন  অনেক গুন বেড়ে যায় তেমনই বিজ্ঞানীদের কাছেও নতুন আবিষ্কারের তথ্য পৌঁছে যায়। তেমনই ঘটেছে এই হরমুজ দ্বীপের সমুদ্রের জলে। রাতারাতি বদলে গিয়েছে রঙ। স্বাভাবিক জলের রঙ এখন রক্তরাঙা।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির পর দ্বীপটির সৈকত এবং উপকূলীয় জলরাশি এক অদ্ভুত রক্তিম রঙ ধারণ করেছে, যা একটি প্রাকৃতিক কিন্তু রহস্যময় দৃশ্য এবং প্রায় ভিনগ্রহের মতো মনে হয়। দেখে মনে হচ্ছে মঙ্গলে পৌঁছে গিয়েছে মানুষ।  হরমুজ প্রণালীর কাছে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি তার নাটকীয় ভূদৃশ্য এবং বর্ণিল ভূতত্ত্বের জন্য ইতিমধ্যেই বিখ্যাত। কিন্তু যখন বৃষ্টির জল হরমুজের লৌহসমৃদ্ধ পাহাড় ও মাটির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তার ফলাফল হয় মন্ত্রমুগ্ধকর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ঘটনার কারণ হলো দ্বীপের শিলায় থাকা উচ্চ ঘনত্বের আয়রন অক্সাইড, বিশেষ করে হেমাটাইট। বৃষ্টি এই খনিজগুলোকে দ্রবীভূত করে এবং স্থানান্তরিত করলে, সেই জলপ্রবাহ বালি এবং অগভীর সমুদ্রের জলকে গাঢ় লাল ও মরচেরঙা করে তোলে।

হেমাটাইট, যা আয়রন অক্সাইডের একটি প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত খনিজ রূপ, মঙ্গল গ্রহে দেখা যাওয়া লাল রঙের জন্যও দায়ী। আর একারণেই হরমুজকে কখনও কখনও “পারস্য উপসাগরের রংধনু দ্বীপ” বলা হয়। আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে হেমাটাইট-সমৃদ্ধ মাটি দ্রুত জারিত হয়, যা এর রঙকে আরও তীব্র করে তোলে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাতারাতি বদলে গেল হরমুজ দ্বীপের সমুদ্রের রঙ

আপলোড সময় : ০১:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইরানের হরমুজ দ্বীপের (Hormuz Island) উপকূল আবারও এক অপার্থিব রূপান্তরের মাধ্যমে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এমনিতেই ভ্রমণার্থীদের জন্য এই অঞ্চল এক কথায় স্বর্গরাজ্য। যেখানে পুরো বিশ্ব থেকে মানুষ প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করতে হাজির হয়। আর সেই অঞ্চলই যখন প্রকৃতির নিয়মেই তাঁর রঙ বদলায় তখন তাঁর আকর্ষণ যেমন  অনেক গুন বেড়ে যায় তেমনই বিজ্ঞানীদের কাছেও নতুন আবিষ্কারের তথ্য পৌঁছে যায়। তেমনই ঘটেছে এই হরমুজ দ্বীপের সমুদ্রের জলে। রাতারাতি বদলে গিয়েছে রঙ। স্বাভাবিক জলের রঙ এখন রক্তরাঙা।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির পর দ্বীপটির সৈকত এবং উপকূলীয় জলরাশি এক অদ্ভুত রক্তিম রঙ ধারণ করেছে, যা একটি প্রাকৃতিক কিন্তু রহস্যময় দৃশ্য এবং প্রায় ভিনগ্রহের মতো মনে হয়। দেখে মনে হচ্ছে মঙ্গলে পৌঁছে গিয়েছে মানুষ।  হরমুজ প্রণালীর কাছে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি তার নাটকীয় ভূদৃশ্য এবং বর্ণিল ভূতত্ত্বের জন্য ইতিমধ্যেই বিখ্যাত। কিন্তু যখন বৃষ্টির জল হরমুজের লৌহসমৃদ্ধ পাহাড় ও মাটির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তার ফলাফল হয় মন্ত্রমুগ্ধকর।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ঘটনার কারণ হলো দ্বীপের শিলায় থাকা উচ্চ ঘনত্বের আয়রন অক্সাইড, বিশেষ করে হেমাটাইট। বৃষ্টি এই খনিজগুলোকে দ্রবীভূত করে এবং স্থানান্তরিত করলে, সেই জলপ্রবাহ বালি এবং অগভীর সমুদ্রের জলকে গাঢ় লাল ও মরচেরঙা করে তোলে।

হেমাটাইট, যা আয়রন অক্সাইডের একটি প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত খনিজ রূপ, মঙ্গল গ্রহে দেখা যাওয়া লাল রঙের জন্যও দায়ী। আর একারণেই হরমুজকে কখনও কখনও “পারস্য উপসাগরের রংধনু দ্বীপ” বলা হয়। আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে হেমাটাইট-সমৃদ্ধ মাটি দ্রুত জারিত হয়, যা এর রঙকে আরও তীব্র করে তোলে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন