০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এআই প্রম্পট কি চিন্তাশক্তি দুর্বল করছে?

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৭:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৫৮ Time View

শেষ কবে আপনি কোনো কাজে এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিয়েছেন? প্রবন্ধের কাঠামো বানাতে, বড় কোনো ডেটা বুঝতে, নাকি চাকরির আবেদনের লেখা মিলিয়ে দেখতে। এমন প্রশ্ন এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। কিন্তু এই সুবিধার পেছনে কি কোনো অদৃশ্য খরচ আছে?

কিছু গবেষক মনে করছেন, আছে। তাদের আশঙ্কা, এআইয়ের ওপর বেশি ভরসা করলে মানুষের নিজের ভাবনা, বিশ্লেষণ আর সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ধীরে ধীরে ভোঁতা হয়ে যেতে পারে।

মস্তিষ্ক কম সক্রিয় হচ্ছে কি?

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা এমআইটির এক গবেষণায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে প্রবন্ধ লিখেছেন, তাদের মস্তিষ্কে বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অংশগুলো তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিল। শুধু তাই নয়, পরে নিজের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিতে বললে তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

৫৪ জন শিক্ষার্থী এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। ইইজি প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ মাপা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এআইকে প্রশ্ন সংক্ষেপ করা, তথ্যসূত্র খোঁজা, ভাষা ঠিক করা এমনকি ভাবনা তৈরি করতেও ব্যবহার করেন। তবে কেউ কেউ স্বীকার করেন, নতুন আইডিয়া তৈরিতে এআই সব সময় খুব কাজে দেয় না।

অফিসের কাজেও কি একই ঝুঁকি?

এই প্রশ্ন কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও মাইক্রোসফটের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা কাজ করছে। সপ্তাহে অন্তত একবার এআই ব্যবহার করেন এমন ৩১৯ জন কর্মীর ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষকেরা দেখেছেন, কোনো কাজে এআইয়ের সক্ষমতার ওপর যত বেশি আস্থা, সমালোচনামূলক চিন্তার প্রয়াস তত কমে।

গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে নিজের মতো করে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উঠে এসেছে বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা কী বলছে?

এই বিতর্কে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগের প্রধান জেইনা দেবানি বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য এআই বানানো হয়নি। তার ভাষায়, “আমরা চাই না শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করে কাজ এড়িয়ে যাক।” তার মতে, এআই সবচেয়ে ভালো কাজ করে টিউটরের মতো, যেখানে প্রশ্ন ভেঙে বুঝতে সাহায্য করে।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কার?

বু শেষ সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীরই। অধ্যাপক হোমস মনে করিয়ে দেন, এআই কীভাবে যুক্তি করে, কীভাবে ডেটা ব্যবহার করে, তা না বুঝে এর ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ। তার কথায়, “এটি কেবল ক্যালকুলেটরের নতুন সংস্করণ নয়। সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হলে এআইকে বোঝা জরুরি।”

এআই আমাদের কাজ সহজ করছে, এতে সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এর সঙ্গে সঙ্গে ভাবার দায়িত্বও ছেড়ে দিচ্ছি।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এআই প্রম্পট কি চিন্তাশক্তি দুর্বল করছে?

আপলোড সময় : ০৭:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

শেষ কবে আপনি কোনো কাজে এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিয়েছেন? প্রবন্ধের কাঠামো বানাতে, বড় কোনো ডেটা বুঝতে, নাকি চাকরির আবেদনের লেখা মিলিয়ে দেখতে। এমন প্রশ্ন এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। কিন্তু এই সুবিধার পেছনে কি কোনো অদৃশ্য খরচ আছে?

কিছু গবেষক মনে করছেন, আছে। তাদের আশঙ্কা, এআইয়ের ওপর বেশি ভরসা করলে মানুষের নিজের ভাবনা, বিশ্লেষণ আর সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা ধীরে ধীরে ভোঁতা হয়ে যেতে পারে।

মস্তিষ্ক কম সক্রিয় হচ্ছে কি?

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা এমআইটির এক গবেষণায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে প্রবন্ধ লিখেছেন, তাদের মস্তিষ্কে বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অংশগুলো তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিল। শুধু তাই নয়, পরে নিজের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিতে বললে তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

৫৪ জন শিক্ষার্থী এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। ইইজি প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ মাপা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এআইকে প্রশ্ন সংক্ষেপ করা, তথ্যসূত্র খোঁজা, ভাষা ঠিক করা এমনকি ভাবনা তৈরি করতেও ব্যবহার করেন। তবে কেউ কেউ স্বীকার করেন, নতুন আইডিয়া তৈরিতে এআই সব সময় খুব কাজে দেয় না।

অফিসের কাজেও কি একই ঝুঁকি?

এই প্রশ্ন কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও মাইক্রোসফটের যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা কাজ করছে। সপ্তাহে অন্তত একবার এআই ব্যবহার করেন এমন ৩১৯ জন কর্মীর ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষকেরা দেখেছেন, কোনো কাজে এআইয়ের সক্ষমতার ওপর যত বেশি আস্থা, সমালোচনামূলক চিন্তার প্রয়াস তত কমে।

গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে নিজের মতো করে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উঠে এসেছে বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা কী বলছে?

এই বিতর্কে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগের প্রধান জেইনা দেবানি বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য এআই বানানো হয়নি। তার ভাষায়, “আমরা চাই না শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করে কাজ এড়িয়ে যাক।” তার মতে, এআই সবচেয়ে ভালো কাজ করে টিউটরের মতো, যেখানে প্রশ্ন ভেঙে বুঝতে সাহায্য করে।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কার?

বু শেষ সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীরই। অধ্যাপক হোমস মনে করিয়ে দেন, এআই কীভাবে যুক্তি করে, কীভাবে ডেটা ব্যবহার করে, তা না বুঝে এর ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ। তার কথায়, “এটি কেবল ক্যালকুলেটরের নতুন সংস্করণ নয়। সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হলে এআইকে বোঝা জরুরি।”

এআই আমাদের কাজ সহজ করছে, এতে সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এর সঙ্গে সঙ্গে ভাবার দায়িত্বও ছেড়ে দিচ্ছি।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন